রবিবার ১৪ জুন ২০২৬
Online Edition

জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরু আজ 

স্টাফ রিপোর্টার : ইলিশ রক্ষায় আগামী নভেম্বর মাস থেকে জুন (২০২০) পর্যন্ত টানা ছয় মাস ১০ ইঞ্চি সাইজের জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। প্রতিবছরই এই সময়ে জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করা হয়। ‘জাতীয় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার মৎস্য ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু এসব কথা বলেন। 

উল্লেখ্য, জাটকা রক্ষার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ শনিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৯’ পালন করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর আরও  ১৩টি দেশে ইলিশ পাওয়া গেলেও আমাদের সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে ইলিশের বিরাট অবদান রয়েছে। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান এক শতাংশ এবং দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১২ শতাংশ। তাই ইলিশ আমাদের আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’

তিনি বলেন,  ‘বর্তমানে ইলিশ আহরণে উপকূলীয় মৎস্যজীবী প্রায় পাঁচ লাখ লোক সরাসরি এবং পরিবহন, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, রফতানিসহ বিভিন্ন কাজে পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন আরও  ২৫ লাখ লোক।’ ইলিশকে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই পণ্য) উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু আরও বলেন, ‘ইলিশসম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নে প্রতিবছর নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করা হয়। এ সময় মৎস্য সংরক্ষণ আইনের আওতায় নদী, মাছঘাট, মৎস্যআড়ত ও বাজারে অভিযান চালানো হয়। তখন জেলেরা যাতে ক্ষুধায় কষ্ট না পান, সেজন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান, জাটকা আহরণে বিরত অতিদরিদ্র জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পদ্মা, মেঘনা, আন্ধার মানিক ও তেঁতুলিয়াসহ অন্যান্য উপকূলীয় নদীতে জাটকার বিচরণ ক্ষেত্রে ইলিশের অভয়াশ্রম তৈরি, মা-ইলিশ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।’

প্রতিমন্ত্রী  বলেন, ‘বিগত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ দশমিক ৯৯ লাখ মেট্রিক টন, সেখানে ২০১৭-à§§à§® অর্থবছরে তা বেড়ে à§« দশমিক à§§à§­ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মা-ইলিশ রক্ষা পাওয়ায় নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারছে। এতে মেঘনা থেকে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমায় ‘জাটকা’ বিস্তৃতি লাভ করেছে। পদ্মা নদীর দুই পাড়ের ফরিদপুর, রাজবাড়ী, পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং যমুনা নদীর তীরবর্তী জেলা সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে।’ জাটকা ও মা-ইলিশ রক্ষায় চলমান কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে সারা বছর ইলিশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ